ডেস্ক রিপোর্ট ॥ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এর প্রেক্ষিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতায় এখনও চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় শেষ হওয়ার পর শনিবার থেকে আপিল শুনানিও শুরু হয়েছে। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসলেও আসন সমঝোতার জট কাটেনি। বিশেষ করে জোটভুক্ত প্রধান শরিক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অতিরিক্ত আসন দাবি করায় সমঝোতা শেষ পর্যায়ে থমকে গেছে।
জোটের একটি রাজনৈতিক নেতা জানান, “ইসলামী আন্দোলন জোটের আলোচনায় জট পাকিয়ে দিয়েছে। সংসদে কখনো প্রতিনিধিত্ব ছিল না, একক নির্বাচনে ভোটের হারও কম। অতিরিক্ত দাবিকে যথাযথভাবে সামঞ্জস্য করতে হবে, যাতে জোটের জয় নিশ্চিত হয়।”
শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার জন্য সোমবার সংবাদ সম্মেলন হওয়ার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত। জামায়াতের আমির দেশে ফিরেছেন। শিগগিরই যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত ঘোষণা করা হবে।
জাগপা সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান বলেন, “এক বাক্সে ভোট ফর্মুলায় আসন সমঝোতার জট এ সপ্তাহে সমাধান হবে। ৯৯ ভাগ সমঝোতা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন। কিছু আসনে দরকষাকষি চলছে। ইসলামী আন্দোলন, জামায়াত ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এতে রয়েছেন।”
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত ২৭৬, ইসলামী আন্দোলন ২৬৮, এনসিপি ৪৭, এবি পার্টি ৫৩, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪, খেলাফত মজলিস ৬৮, এলডিপি ২৪, খেলাফত আন্দোলন ১১, নেজামে ইসলাম পার্টি ৬, জাগপা ৩ এবং বিডিপি দুটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে।
ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ জানান, “আমাদের ‘এ’ গ্রেডের আসন ১৪০টি। সম্মানজনক সংখ্যা ১০০-এর কাছাকাছি। জামায়াত অনেক কম আসন দিতে চায়। সমন্বয়হীনতা রয়েছে, যেখানে জোটের ভেতরের প্রার্থী সমান জনপ্রিয়। সঠিক সমন্বয় জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, ভোট ও আসন উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ। সমঝোতা না হলে কিছু আসনে ওপেন ইলেকশন হতে পারে। যেখানে দুই বা তিনটি শক্তিশালী দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম জানান, প্রাথমিক সদিচ্ছার ভিত্তিতে বৈঠক হয়েছে। প্রস্তাব পর্যালোচনা হচ্ছে। জনপ্রিয়তা ও আসনভিত্তিক শক্তি বিবেচনা করে সমঝোতা চূড়ান্ত হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেন, “একই মঞ্চ, একই ইশতেহার, একই স্লোগান ছাড়া জোট পূর্ণাঙ্গ বলা যাবে না। প্রার্থীরা স্ব-স্ব অবস্থানে প্রচারণা চালাচ্ছেন। যখন কোনো আসন চূড়ান্তভাবে জোটের পক্ষে যাবে, তখন প্রার্থীরা সেই প্রচারণায় অংশ নেবেন বা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন।”
কিছু আসনের মনোনয়ন বাতিল বা অবৈধ ঘোষণা হওয়ার কারণে আপিল শুনানি গুরুত্বপূর্ণ। রাশেদ প্রধান বলেন, বাতিল হলে বিকল্প প্রার্থী বিবেচনা করা হবে।
জোটভুক্ত সব শীর্ষ নেতার বৈঠকে চূড়ান্ত ফয়সালা হবে। সমঝোতায় চমক থাকতে পারে। ২০ জানুয়ারির মধ্যে সব আসনে চূড়ান্ত সমঝোতা ঘোষিত হবে।
