আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপমূলক বক্তব্যের পর ইরান পাল্টা হুমকি দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা চালায়, তবে আঞ্চলিক দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানা হবে।
বুধবার এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, তেহরান সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কসহ একাধিক দেশকে এ বিষয়ে অবহিত করেছে। তিনি বলেন, এসব দেশের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের ক্ষেত্রে সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়বে।
একই সঙ্গে ইরান আঞ্চলিক দেশগুলোর কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, তারা যেন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করতে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগ নেয়।
অন্যদিকে, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ইন্টারনেট সংযোগও আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রথমবারের মতো কোনো বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানিকে বুধবার মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে। তেহরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কারাজ শহর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর দ্রুত বিচার শেষে তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, ৮ জানুয়ারি থেকে সোলতানির সঙ্গে তার পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। সংগঠনটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভ দমনে ভয়ভীতি সৃষ্টি করতে আরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে পারে।
ইরান পরিস্থিতি এখন শুধু অভ্যন্তরীণ নয়, বরং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্যও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
