ডেস্ক রিপোর্ট ॥ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একযোগে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অন্তর্বর্তী সরকারের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের প্রচারণা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে। ভোটের আগে সরকারের এমন সক্রিয় অবস্থান নির্বাচন ও গণভোটের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন চারটি বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে—জুলাই সনদের আলোকে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠন, ভবিষ্যতে দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদ চালু এবং জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত ৩০ দফা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন।
সরকারের প্রচারণায় বলা হচ্ছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়লে প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি থাকতে পারবেন না, রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের ক্ষমতা সীমিত হবে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও পিএসসি গঠনে সরকারি ও বিরোধী দল যৌথভাবে ভূমিকা রাখবে। এসব বার্তা ছড়িয়ে দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হ্যাঁ ভোট দিলে যা যা পাওয়া যাবে’ শিরোনামে একাধিক পোস্ট ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, জুমার খুতবায় আলোচনা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ক্যাম্পেইন, পোশাক কারখানার সামনে ব্যানার এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমেও ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকেও শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রচারণায় যুক্ত হওয়ার নির্দেশনার কথা জানা গেছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জামায়াতে ইসলামী প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দলটির আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, তারা সংস্কারের পক্ষে থাকায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট সমর্থন করছেন।
অন্যদিকে বিএনপি জানিয়েছে, গণভোটের প্রচারণা চালানো তাদের দায়িত্ব নয়। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জনগণই ঠিক করবে তারা ‘হ্যাঁ’ না ‘না’ ভোট দেবে। বিএনপির মতে, তাদের ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাবেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের কথা রয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র ও তরুণদের রাজনৈতিক দল এনসিপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করলেও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে আসনভিত্তিক প্রতিনিধি নিয়োগের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা হওয়া উচিত ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। সরকারের পক্ষপাতমূলক প্রচারণার কারণে গণভোটে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকছে না বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে গণভোট ও নির্বাচন—দুটোর ফলই ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতার মুখে পড়তে পারে।
সূত্র: বিবিসি
