ডেস্ক রিপোর্ট ॥ সরকারি ও বেসরকারি জমির অবৈধ দখল বন্ধে ভূমি মন্ত্রণালয় নতুন করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সাম্প্রতিক সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দলিল থাকা সত্ত্বেও পাঁচ ধরনের জমির দখল ছাড়তে হবে। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দলিল থাকলেই জমির বৈধ মালিকানা নিশ্চিত হয় না। অনেক ক্ষেত্রে দলিল থাকলেও তা আইনগতভাবে বাতিলযোগ্য হতে পারে। ফলে ‘দলিল যার, ভূমি তার’ ধারণা সর্বত্র প্রযোজ্য নয়।
পরিপত্রে যেসব জমির দখল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে সাব-কবলা দলিল। উত্তরাধিকার বণ্টন না করে বা কোনো ওয়ারিশকে বঞ্চিত করে করা সাব-কবলা দলিল আদালতের মাধ্যমে বাতিল হতে পারে।
হেবা দলিলের ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। দাতার সম্পূর্ণ মালিকানা না থাকলে কিংবা সঠিক নিয়ম অনুসরণ না করলে সেই দলিল বৈধ থাকবে না।
এছাড়া জাল দলিল শনাক্তে ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা বড় ভূমিকা রাখছে। দুর্নীতির মাধ্যমে তৈরি জাল দলিল প্রকৃত মালিক প্রমাণ দিলে বাতিল হবে।
সরকারি খাস খতিয়ানের জমি অবৈধভাবে ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রি করে বিক্রি করলে সেই দলিল বাতিল হবে এবং জমি সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরে যাবে। জেলা প্রশাসকদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, অর্পিত সম্পত্তি ব্যক্তিগতভাবে দখলে রাখা যাবে না। এসব জমি এসিল্যান্ডের মাধ্যমে শনাক্ত করে সরকারকে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগের লক্ষ্য সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার, ভূমি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা। এতে রাজস্ব আদায় বাড়ার পাশাপাশি ভূমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা কমবে বলে আশা করছে সরকার।
