আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ ইরানকে ঘিরে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশ পেলেই কয়েক সপ্তাহব্যাপী টানা সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য এই অভিযান আগের তুলনায় অনেক বড় পরিসরে পরিচালিত হতে পারে এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অভিযান শুরু হলে তা দ্রুতই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে রূপ নিতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়বে এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়তে পারে।
কূটনৈতিকভাবে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা অব্যাহত থাকলেও সামরিক প্রস্তুতি সমানতালে চলছে। সম্প্রতি ওমানে দুই দেশের প্রতিনিধিরা পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করার চেষ্টা করেন। কিন্তু একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক শক্তি মোতায়েন করছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, নতুন করে একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানো হচ্ছে এবং এর সঙ্গে হাজারো সেনা, যুদ্ধবিমান ও গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার যুক্ত হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর ক্যারোলিনায় সেনাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে উঠেছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে কখনও কখনও শক্ত অবস্থান দেখাতে হয়। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্রও জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের সামনে সব বিকল্প খোলা রয়েছে।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র দুটি বিমানবাহী রণতরী ব্যবহার করে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। জুন মাসের ‘মিডনাইট হ্যামার’ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়ে যাওয়া স্টেলথ বোমারু বিমান সরাসরি হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান কাতারে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে সীমিত পাল্টা হামলা চালায়।
বর্তমান পরিকল্পনা আরও জটিল বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার মার্কিন বাহিনীর জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পাল্টাপাল্টি হামলা দীর্ঘায়িত হলে তা পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ ছড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে ওয়াশিংটনে সফররত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলে তা অবশ্যই ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
ইরান জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে তারা পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত, তবে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।
