এইচ.এম.এ রাতুল: করোনা মহামারির কঠিন সময়ে অনেক তরুণ যখন কর্মসংস্থান নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন, তখন বরিশালের তরুণ সৈকত রায়হান সাকিন বেছে নেন ভিন্ন পথ। টিউশনি থেকে সঞ্চিত সামান্য অর্থ দিয়ে বাড়ির পাশে শুরু করেন একটি ছোট ফলবাগান। সময়ের সঙ্গে সেই উদ্যোগই এখন সফল নার্সারি ও ফল উদ্যানে পরিণত হয়েছে।
বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের তিলক গ্রামের বাসিন্দা সাকিন ২০২৩ সালে বরিশাল বিএম কলেজ থেকে মার্কেটিং বিষয়ে এমবিএ সম্পন্ন করেন। চাকরির পেছনে না ছুটে নিজস্ব এক একর জমিতে ফলচাষ শুরু করেন তিনি। বাবাকে ছোটবেলায় হারানোর পর মায়ের সংগ্রাম তাকে স্বনির্ভর হওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়। মায়ের সহযোগিতা এবং ছোট ভাইয়ের সমর্থন তাকে এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে।
বর্তমানে তার বাগানে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ৮০টির বেশি আমের জাত রয়েছে। বানানা ম্যাঙ্গো, অস্টিন, ভ্যালেন্সিয়া প্রাইড, আমেরিকান পালমার, পুসা সুরিয়া, অরুণিমা ও অ্যাম্বিশের মতো বিদেশি জাতের পাশাপাশি হিমসাগর, ল্যাংড়া, ফজলি, আম্রপালি, গোপালভোগ, খিরসাপাত, মল্লিকা, কাটিমন, হারিভাঙ্গা ও রানিপছন্দসহ জনপ্রিয় দেশীয় আমও চাষ করছেন তিনি।
বাগানে রয়েছে প্রায় ৭০ প্রজাতির বিদেশি ফলের চারা—আঠাবিহীন কাঁঠাল, রাম্বুটান, অ্যাভোকাডো, মাল্টা, লাল জামরুল, আঙুর, আনার, কমলা ও আপেল। বিশেষভাবে দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে ছোট উচ্চতার গাছে ধরা আঠাবিহীন কাঁঠাল, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
সাকিন জানান, সঠিক জাত নির্বাচন, উন্নত চারা ও পরিকল্পিত পরিচর্যা থাকলে ফলচাষ অত্যন্ত লাভজনক হতে পারে। তার লক্ষ্য বরিশালের মাটিতে বিদেশি ফল চাষের সম্ভাবনা প্রমাণ করা এবং তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার অনুপ্রেরণা দেওয়া। ইতোমধ্যে তার সহায়তায় বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় ১০টির বেশি নতুন ফলবাগান গড়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের মতে, সাকিনের বাগান এখন শিক্ষা ও অনুপ্রেরণার কেন্দ্র। অনেক তরুণ সেখানে গিয়ে ফলচাষ সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন। সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা উত্তম ভৌমিক বলেন, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বাগানটি পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. মামুনুর রহমান জানান, উদ্যোক্তাদের জন্য পরামর্শ, টেকনিক্যাল সাপোর্ট ও কৃষিঋণ সুবিধা নিশ্চিত করতে বিভাগ কাজ করছে।
পরিশ্রম, পরিকল্পনা ও সাহস থাকলে কৃষিই হতে পারে নতুন প্রজন্মের সম্ভাবনাময় কর্মসংস্থান—সাকিনের সফলতা সেই বার্তাই দিচ্ছে।
