আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস এখন অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি। দলটির ভেতরে ব্যাপক বিদ্রোহের জেরে দলের নিয়ন্ত্রণ হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। বুধবার (৩ জুন) বিদ্রোহী এই বিধায়কেরা আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেন এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় প্রধান বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের উদ্যোগ নেন।
সকালে বিদ্রোহী শিবিরের পক্ষে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা বিধানসভার স্পিকারের কাছে ৬০ জন বিধায়কের স্বাক্ষরসংবলিত একটি চিঠি জমা দেন। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রধান বিরোধী দলনেতা হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
এদিকে রাজ্য সচিবালয় নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক বৈঠকেও তৃণমূলের অধিকাংশ বিদ্রোহী বিধায়ক অংশ নেন। এতে দলটির ভেতরের বিভক্তি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে বুধবার সন্ধ্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেসের সব শাখা ও সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি দলের পুনর্গঠন এবং বিদ্রোহ মোকাবিলার কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
দীর্ঘ ১৫ বছর পশ্চিমবঙ্গ শাসন করা তৃণমূল কংগ্রেস এখন কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি। দলীয় নেতৃত্ব, সাংগঠনিক কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং তৃণমূল কংগ্রেসের পরবর্তী পথচলা এখন রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
