আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ পাকিস্তানে তীব্র পানি সংকট ও অবকাঠামোগত ব্যর্থতার মধ্যে ভারতকে দায়ী করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ অভিযোগ করেছেন, ভারত সিন্ধু নদ জলচুক্তি স্থগিত করে পানি “অস্ত্র হিসেবে” ব্যবহার করছে এবং চেনাব নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, পরিস্থিতি প্রমাণিত হলে সামরিক প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করা হবে।
ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি আরও দাবি করেন, পাকিস্তানি প্রতিনিধি দল অতীতে ভারতের বিভিন্ন জলপ্রকল্পে প্রায় ১১৫ বার পরিদর্শন করেছে। তবে গত এক বছরে সীমান্তের ওপারে কী পরিবর্তন হয়েছে, সে বিষয়ে পাকিস্তানের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই বলেও স্বীকার করেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই স্বীকারোক্তি পাকিস্তানের অভিযোগের ভিত্তিকে কিছুটা দুর্বল করেছে।
এদিকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ পানি ব্যবস্থাপনা ভয়াবহ সংকটে পড়েছে। সিন্ধু ও বেলুচিস্তান প্রদেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ তীব্র পানির অভাবে ভুগছেন। সেচ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী উত্তর-পশ্চিম খালে ৬৪ দশমিক ১ শতাংশ, রাইস খালে ৩৮ শতাংশ এবং দাদু খালে ৮২ শতাংশ পর্যন্ত পানি ঘাটতি রেকর্ড করা হয়েছে।
দক্ষিণ পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সুক্কুর ব্যারাজে পানির স্তর বিপজ্জনকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় স্থানীয় নেতারা বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের ভেতরে পানি বণ্টন নিয়ে রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক বিরোধ এবং অব্যবস্থাপনার কারণেই এই সংকট আরও গভীর হয়েছে।
ভারত ১৯৬০ সালের সিন্ধু নদ জলচুক্তি স্থগিত করার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে সিন্ধু অববাহিকার পানি ব্যবহার করে আসছিল। এখন পানি সংকট, কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং নিরাপত্তা উদ্বেগ একসঙ্গে মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে
সূত্র: এনডিটিভি
