ডেস্ক রিপোর্ট ॥ ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটির নিকটবর্তী মরিগাঁও এলাকায় উৎপত্তি হওয়া পরপর দুই দফা ভূমিকম্পের কম্পনে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশসহ পুরো উত্তর-পূর্ব ভারতীয় অঞ্চল। সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভোরে এই ভূমিকম্প সিলেট বিভাগে ব্যাপকভাবে অনুভূত হয়।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটি সংঘটিত হয় ভোর ৪টা ৪৭ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডে এবং দ্বিতীয়টি হয় ভোর ৪টা ৪৭ মিনিট ৫২ সেকেন্ডে। প্রথমে ভূমিকম্প দুটির মাত্রা ৫ দশমিক ৪ ও ৫ দশমিক ২ বলা হলেও পরবর্তীতে তা সংশোধন করে ৫ দশমিক ২ ও ৪ দশমিক ৯ করা হয়।
কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ভোরে সংঘটিত ভূমিকম্প দুটি মধ্যম মাত্রার। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৫ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আফটারশক হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের সক্রিয় ফল্ট লাইনে অথবা দেশের অভ্যন্তরেও আফটারশক অনুভূত হতে পারে। তাই সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
ভূমিকম্প দুটির উৎপত্তিস্থল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনায় ভবন নিরাপত্তা ও জরুরি প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
