ধর্ম ডেস্ক ॥ পবিত্র মহররম ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস এবং চারটি সম্মানিত মাসের অন্যতম। এই মাস মুসলমানদের কাছে ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব বহন করে। বিশেষ করে মহররমের ১০ তারিখ আশুরা দিবস কারবালার শোকাবহ ঘটনার স্মৃতিকে ধারণ করে।
ইসলামি ইতিহাস অনুযায়ী, কারবালার প্রান্তরে ইমাম হুসাইন (রা.) এবং তার পরিবারের সদস্যসহ সঙ্গীরা অন্যায়ের কাছে মাথানত না করে শাহাদাত বরণ করেন। তাদের এই আত্মত্যাগ মুসলিম বিশ্বে ন্যায়, সত্য ও আদর্শের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
মহররম মাসজুড়ে বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচি পালন করা হয়। মসজিদ, মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কারবালার শিক্ষা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগি, দোয়া ও আত্মসমালোচনার মাধ্যমে মাসটির গুরুত্ব স্মরণ করেন।
আশুরার রোজা ইসলামে একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচিত। হাদিসে এই দিনের রোজার বিশেষ ফজিলতের কথা উল্লেখ রয়েছে। অনেক মুসলমান ৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ মহররম রোজা পালন করে থাকেন।
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, মহররমের মূল শিক্ষা হলো সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য ত্যাগ স্বীকার করা এবং অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। কারবালার ঘটনা কেবল একটি ঐতিহাসিক অধ্যায় নয়, বরং মানবতার জন্য চিরন্তন শিক্ষা। তাই প্রতি বছর মহররম এলে মুসলিম বিশ্ব গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে এই মাসের তাৎপর্য স্মরণ করে।
