আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা চুক্তির প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে দ্রুত প্রতিফলিত হয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা হ্রাস, হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা এবং ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করা।
চুক্তির পরপরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে পতন দেখা যায়। ব্রেন্ট ধরনের তেল ব্যারেলপ্রতি ৮৯ সেন্ট কমে ৭৮ দশমিক ৬৬ মার্কিন ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ডব্লিউটিআই ধরনের তেলের দাম ৯৮ সেন্ট কমে ৭৫ দশমিক ৮১ মার্কিন ডলারে দাঁড়ায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনায় বিনিয়োগকারীরা বিক্রির দিকে ঝুঁকেছে, যার ফলে দাম কমেছে।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের তেল আবারও দ্রুত বৈশ্বিক বাজারে ফিরে আসতে পারে—এই প্রত্যাশাই মূলত দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। ১৪ দফা সমঝোতা অনুযায়ী আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তির সম্ভাবনা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে এই চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক সহায়তার জন্য প্রায় ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বৃহৎ আর্থিক পরিকল্পনার কথাও আলোচনায় এসেছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে গেলে ২০২৭ সালের দিকে বিশ্ববাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে ভবিষ্যতে তেলের দাম আরও ওঠানামার মধ্যে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনগুলোতে এই চুক্তির বাস্তবায়নের গতি ও কার্যকারিতাই বিশ্ব তেলবাজারের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।
