ঝালকাঠি প্রতিনিধি ॥ ঝালকাঠির রোনালসে সড়কে অবস্থিত আওয়ামী লীগের সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর বাসভবন একসময় জেলার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। দলীয় বৈঠক, নেতা-কর্মীদের আনাগোনা এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সাক্ষী সেই ভবন এখন পরিত্যক্ত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমানে এটি ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় এবং মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে রূপ নিয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিক্ষুব্ধ জনতার হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে ভবনটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকে কোনো সংস্কার বা রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় ভবনটি দ্রুত জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। বিভিন্ন কক্ষে এখনো পোড়া দেয়াল, ভাঙা দরজা-জানালা এবং ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। চারদিকে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি বাড়ছে।
সরেজমিনে ভবনের ভেতরে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম পড়ে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের বেলায় সেখানে অসামাজিক কর্মকাণ্ডও ঘটে। নিরাপত্তার অভাবে ভবনটি অপরাধীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, গত মে মাসে ভবনের সামনের অংশ টিন দিয়ে ঘিরে দেওয়া হলেও পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীরা সেই টিন অপসারণ করেন। তারা ভবনের ভেতরে দুটি ব্যানার টানান, যার একটিতে ভবনটিকে পৌরবাসীর ময়লা ফেলার স্থান হিসেবে ব্যবহার করার আহ্বান জানানো হয়। এরপর থেকেই সেখানে নিয়মিত আবর্জনা ফেলা হচ্ছে।
জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সৈয়দ আলী হাসান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অগ্নিসংযোগে বাড়িটির ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং পরে প্রায় ৫ কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনাও আলোচনায় আসে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আবারও হামলা ও ভাঙচুর হয়। বর্তমানে ভবনটি অস্থায়ী ডাম্পিং স্থানে পরিণত হয়েছে।
ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ভবনটির বর্তমান অবস্থা একটি রাজনৈতিক শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। স্থানীয়রা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবনটিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
