আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ ভারতের জাতীয় স্বার্থ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে ঘিরে উদ্ভূত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লোকসভায় প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছে নয়াদিল্লি। ভারত সরকার স্পষ্ট করেছে, বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক কোনো তৃতীয় দেশের ভূমিকার ওপর নির্ভরশীল নয় এবং এ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের জাতীয় স্বার্থ অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
শুক্রবার লোকসভায় লিখিত জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ক জনগণের কল্যাণকেন্দ্রিক এবং নিয়মিত কূটনৈতিক সংলাপ ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
পাকিস্তান বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে ভারতের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কার বিষয়ে কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন।”
তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে যেসব বিষয় ভারতের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে জড়িত, সেগুলোর ওপর সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে নজর রাখছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিষয়টি ভারত সরকার নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের কাছে তুলে ধরছে। প্রধানমন্ত্রী এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উভয়েই এ বিষয়ে কথা বলেছেন। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে আসা বিভিন্ন প্রতিবেদন সরকার পর্যবেক্ষণ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে সব নাগরিকের—সংখ্যালঘুসহ—জীবন ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সে দেশের সরকারের দায়িত্ব।
বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে সম্ভাব্য কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা প্রসঙ্গে কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, প্রতিবেশী অঞ্চলসহ ভারতের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব অগ্রগতি সরকার নিয়মিতভাবে মূল্যায়ন করছে।
তিনি জানান, ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতির আওতায় ভারত প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সংলাপ, উন্নয়ন সহযোগিতা, বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
