ডেস্ক রিপোর্ট ॥ আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে কেন্দ্র করে স্পিকার নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা বাড়ছে। ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর দুই শীর্ষ নেতা অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এবং ড. আবদুল মঈন খানকে ঘিরেই মূল আলোচনা আবর্তিত হচ্ছে। সংসদের প্রথম বৈঠকেই স্পিকার নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
দলীয় সূত্র বলছে, আগামী ২৬ তারিখের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা হতে পারে। জয়নুল আবেদীন দীর্ঘদিন ধরে সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় যুক্ত এবং সাংবিধানিক বিষয়ে দক্ষ আইনজ্ঞ হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান। সংসদীয় অভিজ্ঞতা ও আইনি জ্ঞানের সমন্বয় তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে এগিয়ে রাখছে বলে মনে করছেন অনেক পর্যবেক্ষক।
অন্যদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান প্রবীণ ও অভিজ্ঞ রাজনীতিক হিসেবে দলের ভেতরে এবং বাইরে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন। নরসিংদী-2 আসন থেকে চারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে তার সংসদীয় অভিজ্ঞতা রয়েছে। দলের অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ নেতা মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেও তিনি এখনো সরকারের বাইরে রয়েছেন, যা তাকে স্পিকার পদের আলোচনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার পদ সংসদীয় গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। সংসদ পরিচালনা, কার্যপ্রণালী বিধি প্রয়োগ এবং সদস্যদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্পিকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিরপেক্ষতা, সাংবিধানিক জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতাই নির্বাচনের ক্ষেত্রে মূল বিবেচ্য হবে।
সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সদস্যদের ভোটে স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার বিধান রয়েছে। সাধারণত বিদায়ী স্পিকারের সভাপতিত্বে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও এবার কিছুটা ব্যতিক্রম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টি এখন ২৬ ফেব্রুয়ারির দিকে, যেদিন নির্ধারিত হবে ত্রয়োদশ সংসদের অভিভাবক কে হচ্ছেন।
