স্টাফ রিপোর্টার : বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবিরকে ঘিরে সিটি করপোরেশনের একটি প্রভাবশালী মহল পরিকল্পিতভাবে প্রপাগাণ্ডা ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে—নিয়মবহির্ভূত সুবিধা না দেওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি ও ফাঁসানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী।
সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদে না থাকায় চার বছর সিটি করপোরেশন চাকরি থেকে বহিষ্কার ছিলেন প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির। সাবেক মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ ২০২০ সালে এক নোটিশের মাধ্যমে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন। ২০২৪ সালে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয় এবং তিনি পুনরায় দায়িত্বে ফেরেন। পরে পর্যায়ক্রমে তাকে প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এই পদোন্নতির পর থেকেই বরিশাল সিটি করপোরেশনের একটি অংশের প্রকৌশলীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার শুরু করে বলে জানা গেছে।
সিটি করপোরেশন থেকে জানা গেছে, সম্প্রতি সিটি করপোরেশনের ২০৮ কোটি টাকার ই-জিপি টেন্ডারকে কেন্দ্র করে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে ওই গোষ্ঠীটি। উল্লেখ্য এটিই বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রথম ই-জিপি টেন্ডার। সচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় ই- জিপি টেন্ডার বাস্তবায়ন করায় প্রধান প্রকৌশলীর প্রতি ক্ষোভ আরও বাড়ে। টেন্ডার নিয়ে অনিয়মে বাধা হওয়ায় তাকে ‘আওয়ামী দোসর’ আখ্যা দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন সংস্কার কাজ হাতিয়ে নিতে হুমায়ুন কবিরের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল একাধিক প্রভাবশালী মহল। কিন্তু তিনি স্বক্ষর না করায় বিষয়টি ‘কাল হয়ে দাঁড়ায়’ তার জন্য। এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সাবেক মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর সময়ে গঠিত বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদের প্রস্তাবিত কমিটিতে সহ-সভাপতি করা হলে তিনি আপত্তি জানায়। কমিটির কর্মকাণ্ড সঠিক না হওয়ায় তিনি নিজেই কমিটিতে না থাকার ঘোষণা দেন। পরে সেই সূত্র ধরে তাকে সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলীর চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, ২০২৪ সালের আগ পর্যন্ত বহিষ্কারাদেশ বহাল ছিল। নতুন সরকারের সময় তিনি চাকরি ফিরে পান এবং পরবর্তীতে প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি পান। এই পদোন্নতিই তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদসহ চলমান অপপ্রচার বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার চলছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যমূলক এবং আমি কোন কমিটির সদস্য নই। আমি সবসময় নিয়ম-নীতির বাইরে কোনো কাজ করিনি, করবও না। আমি স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ করার চেষ্টা করছি বলেই কিছু মহল আমাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। জনগণের স্বার্থে আমি দায়িত্ব পালন করে যাব।”
