নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশালে পাওনাদারের কাছ থেকে রাখা মোবাইল সেট আদায় করতে গভীর রাতে এক অফিসে ডেকে নিয়ে চার সন্তানের জনক বেল্লাল হোসেন রাজ (৩৫) নামের যুবককে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুজন কলগার্লসহ তিনজনকে পুলিশ আটক করেছে।
ঘটনা বুধবার (০৩ ডিসেম্বর) গভীর রাতে বরিশাল নগরীর লঞ্চঘাট এলাকায় বান্দরোডের জেলা পরিষদ মার্কেটের তৃতীয় তলায় অনিবন্ধিত একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল অফিসে ঘটেছে। নিহত বেল্লাল হোসেন রাজ বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিম চরআইচা গ্রামের আব্দুল হক রাজের ছেলে। তিনি পেশায় মোটরসাইকেলচালক ছিলেন এবং দুই মাসের পুত্র সন্তান ও তিন কন্যার জনক ছিলেন।
আটকরা হলেন— ফরিদপুরের খালিশপুরের মায়া চৌধুরী (১৮), পিরোজপুরের স্বরুপকাঠি উপজেলার সাদিয়া আক্তার (২০) এবং সদর উপজেলার গিলাতলী এলাকার অটোরিকশাচালক রনি হাওলাদার (২৮)। আটক রনির দাবি, বেল্লাল রাজের হাত হাইভোল্টের বিদ্যুতের তারে লেগে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মারা যান। তবে নিহতের পরিবার এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছে।
নিহতের স্ত্রী শাহনাজ বেগম জানান, মঙ্গলবার (০২ ডিসেম্বর) দুপুরে খাবার খেয়ে বেল্লাল বাড়ি থেকে বের হয় এবং ভোর রাতে রানা নামের একজন ব্যক্তি তার মেয়ের মোবাইল নম্বরে ফোন করে জানায় যে বেল্লাল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়ে হাসপাতালে রয়েছে। পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাশঘরে গিয়ে মৃতদেহ পান। পরিবারের পক্ষ থেকে স্বামীর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলা হয়েছে।
নিহতের বাবা আব্দুল হক রাজ অভিযোগ করেন, সদর উপজেলার তালতলী এলাকার পিন্টু নামের একজন যুবকের কাছে তার ছেলে ১০ হাজার টাকা পাবে। টাকা পরিশোধ না করায় পিন্টুর মোবাইল সেট আটকে রাখে বেল্লাল। মোবাইলটি পরে অন্যত্র বিক্রি করা হয়। এ নিয়ে পিন্টু, বেল্লাল ও স্বপনের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
আব্দুল হক রাজের অভিযোগ, বেল্লালকে মোবাইল এবং টাকা আদায় করতে সাংবাদিক রিপন রানা তাকে তার কথিত পত্রিকা অফিসে ডেকে নিয়ে যান। রাত সোয়া ৪টার দিকে বেল্লালের মৃতদেহ তৃতীয় তলা থেকে নিচে নামানো হয়। রিপন রানা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
জেলা পরিষদ মার্কেটের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, রাত ১১টার দিকে বেল্লাল ও রানা অফিসে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পর কলগার্লরা উপস্থিত হয়। রাত ৪টা ১৩ মিনিটে বেল্লালের মৃতদেহ নিচে নামানো হয়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, রিপন রানা বিভিন্ন হোটেল থেকে কলগার্ল এনে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলত। এছাড়া, রিপন নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে গভীর সখ্য গড়ে তুলেছিলেন। নিহতের সুরতহাল রিপোর্টে দেখা গেছে, বেল্লালের ডান হাত ও বুক, পিঠের কিছু অংশ ঝলসে গেছে।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে চারজন ছিল, তার মধ্যে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে রিপন রানা, মায়া চৌধুরী, সাদিয়া, রনি, সবুজকে আসামী করে কোতয়ালী মডেল থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
