ঝালকাঠি প্রতিনিধি ॥ ঝালকাঠি-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও ১০ দলীয় জোটের শরিক ড. ফয়জুল হক বলেছেন, তার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় দলের ক্ষতির চেয়ে লাভই বেশি হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ড. ফয়জুল হক বলেন, “এই ভাইরাল হওয়া বক্তব্যে আমাদের ২ কোটি ভোট বাড়ছে। মানুষ আমাদের কথা শুনছে, দেখছে।” তিনি এটিকে আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া একটি ‘গিফট’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং নেতাকর্মীদের এসব বিষয় নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার আহ্বান জানান।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতুকে সংবর্ধনা দিতে আয়োজিত এ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ড. ফয়জুল হক বলেন, “ফেসবুক ব্যবহার থেইকা সাবধান থাকবেন। ঝালকাঠি-১ আসন লইয়া রাশি এমনি আমাগো ভালো।” তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলাম যা করে বা বলে, তা দ্রুতই ভাইরাল হয়ে যায় এবং সেটিই অনেক সময় ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়।
চায়ের দোকান ও বিড়ি খাওয়া প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে তৈরি বিতর্কের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, তার বক্তব্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিসলিড করা হয়েছে। “আমি বলছি—আমার কর্মীরা চায়ের দোকানে গেলেও দাওয়াত দিবে। কেউ যদি বিড়ি খায়, সেও বিড়ি খাওয়ার সময় জামায়াতের দাওয়াত দিবে। এতে দোষের কিছু নাই,” বলেন তিনি।
ড. ফয়জুল হক বলেন, “এই দেশের বিড়িওয়ালা মানুষরা আমাদের ভোট দেবে না—এই চিন্তা আমরা করি না। দাড়ি কামানো মানুষ, সাধারণ মানুষ, ইসলামওয়ালা মানুষ—সবাই আমাদের ভোট দেবে ইনশাল্লাহ।” তিনি বলেন, মানুষকে ভালো পথে আনার মালিক আল্লাহ, আর জামায়াতে ইসলাম সেই দাওয়াত পৌঁছে দেয় মাত্র।
ভাইরাল বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এইটা আমাগো কোনো সমস্যা না। ২ কোটি টাকার মার্কেটিং তারা করে দিছে।” ডা. মাহমুদা মিতুর মাত্র দুই মিনিটের বক্তব্যও ভাইরাল হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামের প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
অনুষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশে ‘স্মার্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থা’ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং বলেন, জামায়াতে ইসলাম সেই ব্যবস্থা গড়ে দেখাবে ইনশাল্লাহ। কাঠালিয়া ও রাজাপুর এলাকার মানুষের ভালোবাসায় তিনি আবেগাপ্লুত বলেও জানান।
দলীয় শৃঙ্খলা ও ঐক্যের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, ১০ দলীয় জোটকে এক থাকতে হবে। কোনো ভুল হলে তা নিজেদের মধ্যে সমাধান করতে হবে, প্রকাশ্যে বা ফেসবুকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে কথা বলা যাবে না।
নির্বাচন প্রসঙ্গে ড. ফয়জুল হক বলেন, কাঠালিয়ার মানুষ এখন ১২ তারিখের অপেক্ষায়। “মানুষ বলতেছে—এহন দেখতে চাই দাঁড়িপাল্লা,” বলেন তিনি। বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “খেলা এখনো শেষ হয় নাই। রাজাপুর-কাঠালিয়ায় শুধু এমপি না, আরও অনেক কিছু হবে।”
