ঝালকাঠি প্রতিনিধি ॥ ঝালকাঠি জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে চলমান চাঁদাবাজি ও মাসোয়ারা বাণিজ্যের অভিযোগ ফের আলোচনায় এসেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথগুলোতে ট্রাফিক পুলিশের কিছু সদস্য নিয়মিতভাবে যানবাহন থেকে অবৈধ অর্থ আদায় করে আসছিলেন।
গত ২৫ ডিসেম্বর থেকে ১৫ দিন ধরে পরিচালিত সরেজমিন পর্যবেক্ষণে কৃষ্ণকাঠি পেট্রোল পাম্প মোড়, কলেজ মোড় ও ফায়ার সার্ভিস মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের একাধিক চেকপোস্টে অর্থ আদায়ের দৃশ্য দেখা গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সার্জেন্ট, টিএসআই ও এটিএসআইরা মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে প্রকাশ্যেই টাকা আদায় করতেন।
প্রাথমিক অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ট্রাফিক সার্জেন্ট হাসানকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে পরিবহন শ্রমিক ও সচেতন মহলের দাবি, এই চাঁদাবাজি একটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়, বরং একটি সংগঠিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
পরিবহন খাতের সূত্র জানায়, জেলার অন্তত ৭০টির বেশি দূরপাল্লার বাস, মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড, টমটম, কাভার ভ্যান ও পার্সেল পরিবহন থেকে মাসিক হারে টাকা তোলা হয়। এছাড়া রিকুইজিশন ছাড়াই স্লিপ বিক্রি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
চালকদের অভিযোগ, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও ‘ত্রুটি’ দেখিয়ে হয়রানি করা হয়। টাকা দিলে নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ মেলে। অন্যদিকে, ফিটনেসবিহীন ট্রলি ও টমটম গাড়ি নিয়মিত মাসোয়ারার বিনিময়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, ট্রাফিক পুলিশের কয়েকজন সদস্য শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে কাভার ভ্যান ও বাস থেকে মাসোয়ারা সংগ্রহ করতেন। সার্জেন্ট হাসান এই কার্যক্রমের তদারকিতে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঝালকাঠির পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, “অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্তে আরও কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
