ঝালকাঠি প্রতিনিধি ॥ নির্বাচন কমিশনের রায়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রার্থীতা ফিরে পেয়ে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনের নির্বাচনী মাঠে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা গোলাম আজম সৈকতের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার মাধ্যমে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে নির্বাচন কমিশনে দায়ের করা আপিলের শুনানি শেষে গোলাম আজম সৈকতের প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করা হয়। এর আগে গত ৩ জানুয়ারি ঝালকাঠি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জমা দেওয়া ভোটারের এক শতাংশ সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের সঙ্গে গড় মিল না থাকার অভিযোগ তুলে তার মনোনয়ন বাতিল করেছিলেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার ওই সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হয়ে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন গোলাম আজম সৈকত। শুনানিতে তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক। কমিশন উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে এবং নথিপত্র যাচাই করে তার মনোনয়ন পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেয়।
গোলাম আজম সৈকত বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন এবং সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা হিসেবে পরিচিত। আসন্ন নির্বাচনে তিনি ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন।
প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় গোলাম আজম সৈকত বলেন, “প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে মিথ্যা অভিযোগের আশ্রয় নিয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্তে সত্যের জয় হয়েছে।” তিনি বলেন, “রাজাপুর ও কাঠালিয়ার গণমানুষ উন্নয়ন ও ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতির পক্ষে রয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ তাদের রায় ব্যালটের মাধ্যমে প্রকাশ করবে।”
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গোলাম আজম সৈকতের প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ায় ঝালকাঠি-১ আসনের নির্বাচনী হিসাব-নিকাশে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে।
