গৌরনদী প্রতিনিধি ॥ বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় অননুমোদিতভাবে চোখের চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে আলোচনায় এসেছেন মো. ইব্রাহিম খলিল (৬০) নামের এক ব্যক্তি। এমবিবিএস ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও প্রায় ২০ বছর ধরে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, ভুরঘাটা বাজারের একটি ফার্মেসিকে কেন্দ্র করে সপ্তাহে তিন দিন রোগী দেখেন তিনি। এছাড়া নিজের বাসায় বসেও নিয়মিত রোগী দেখেন এবং চিকিৎসা দেন। অনেক মানুষ তাকে প্রকৃত চিকিৎসক মনে করে চিকিৎসা নিচ্ছেন, যা স্থানীয়ভাবে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া প্রেসক্রিপশনগুলোতে দেখা যায়, প্রেসক্রিপশন প্যাডে ইব্রাহিম খলিলের পাশাপাশি এফ আর হাবীব নামের একজন চিকিৎসকের নাম উল্লেখ থাকে। অভিযোগ রয়েছে, প্রেসক্রিপশন দেওয়ার পর ওই চিকিৎসকের নাম ও নম্বর মার্কার দিয়ে মুছে ফেলা হয়। এতে চিকিৎসা পদ্ধতির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, তিনি রোগীদের অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন ওষুধ সরবরাহ করছেন। অথচ বাসায় বসে প্রাথমিক চিকিৎসার বাইরে কোনো ধরনের চিকিৎসা দেওয়ার অনুমতি তার নেই।
ইব্রাহিম খলিল বলেন, তিনি এমবিবিএস চিকিৎসক নন; বাংলাদেশ স্টেট মেডিকেল থেকে প্যারামেডিকেল কোর্স করেছেন। রোগী এলে মাঝে মাঝে ঢাকায় কর্মরত তার পরিচিত চিকিৎসক এফ আর হাবীবকে ফোন করে পরামর্শ নেন এবং সেই অনুযায়ী চিকিৎসা দেন।
এফ আর হাবীব জানান, তিনি মাঝে মাঝে ফোনে কিছু পরামর্শ দিলেও নিয়মিতভাবে চিকিৎসা তদারকি করেন না।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি রোগী পরীক্ষা ছাড়া ফোনে চিকিৎসা দেওয়া বিপজ্জনক। বিশেষ করে চোখের মতো সংবেদনশীল অঙ্গে ভুল চিকিৎসা স্থায়ী ক্ষতি এমনকি অন্ধত্বের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকি।
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ফকরুল ইসলাম মৃধা বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বরিশাল সিভিল সার্জন এস এম মনজুর-এ-এলাহী জানান, এমবিবিএস ডিগ্রি ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক প্রদান সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এ ধরনের চিকিৎসা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
