নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশালে গৃহবধূ আঁখি আক্তারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার এটিকে আত্মহত্যা নয়, বরং পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছে। একই সঙ্গে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নিহতের মা মোসাম্মৎ মিনারা বেগম।
রবিবার (৩ মে) বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পর পুলিশ মামলা নিতে অনীহা দেখিয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহেও বাধা দিয়েছে। এতে বিচার পাওয়ার পথ কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি তার।
মিনারা বেগম জানান, ২০২২ সালের ১৩ ডিসেম্বর নগরীর হযরত শাহজালাল সড়কের বাঘিয়া এলাকার নান্নু মীরের ছেলে মোঃ তৌহিদুর রহমানের সঙ্গে আঁখির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য তার মেয়েকে নির্যাতন করা হতো। ইতোমধ্যে এক লাখ টাকা নেওয়ার পরও আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এ দাবির জেরেই মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার।
তিনি বলেন, ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যা থেকে ভোরের মধ্যে আঁখিকে হত্যা করে আত্মহত্যা হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করা হয়। পুলিশ খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা দেখেন, টয়লেটের প্যানের ওপর অস্বাভাবিকভাবে ঝুলছিল লাশ। গলায় কাপড় পেঁচানো, গলার পাশে দাগ এবং মুখ দিয়ে লালা বের হওয়া—সবকিছুই হত্যার ইঙ্গিত দেয় বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ঘটনার পর স্বামী তৌহিদুর রহমান, তার বাবা নান্নু মীর ও মা তানিয়া আক্তার তাদের ১১ মাস বয়সী শিশুকন্যাকে নিয়ে পালিয়ে যান। অভিযুক্তদের পলাতক থাকা ঘটনাকে সন্দেহজনক করে তুলেছে বলে মত পরিবারের।
মিনারা বেগম জানান, থানায় মামলা না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে ২৭ এপ্রিল আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত সেটিকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। তিনি অবিলম্বে আসামিদের গ্রেফতার, নিরপেক্ষ তদন্ত ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
শেষে তিনি বলেন, “আমি একজন অসহায় মা। আমার মেয়ের হত্যার সঠিক বিচার চাই।”
