আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ প্রকাশিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন কাঠামো নির্ধারণের বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। নথিটি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সমঝোতা অনুযায়ী, চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে ধাপে ধাপে ইরানের বিরুদ্ধে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। এর মধ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সিদ্ধান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞাগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি ইরানি তেল, পেট্রোলিয়াম পণ্য, ব্যাংকিং, বীমা ও পরিবহন খাতে তাৎক্ষণিক ছাড়পত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
অর্থনৈতিক অংশে যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে। চূড়ান্ত চুক্তির ৬০ দিনের মধ্যে এ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।
পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান পুনরায় ঘোষণা করেছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করবে না। সমঝোতা স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে ইরানের ভেতরেই উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিম্নমাত্রার উপাদানের সঙ্গে মিশিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হবে। এই বিষয়টি সরকারি নথিতে নতুনভাবে স্পষ্ট করা হয়েছে, যা পূর্বের খসড়ায় ছিল না।
এছাড়া ইরানের স্থগিত বা সীমাবদ্ধ আর্থিক সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এসব অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া চলমান আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
সমঝোতা বাস্তবায়ন ও ভবিষ্যৎ চূড়ান্ত চুক্তির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি নির্বাহী তদারকি কাঠামো গঠনের কথাও নথিতে উল্লেখ রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা একে রাজনৈতিক নথি হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছেন, পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কিত আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার নেপথ্যে রয়েছে, যা প্রকাশিত পাঠে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
