নিউজ ডেস্ক. বরিশালে ঐতিহ্যবাহী বরিশাল জিলা স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক স.ম. ফাহিদ আলেন্দের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে শিক্ষার্থীদের জুলাই অভ্যুত্থানের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে বাধা, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কোচিং বাণিজ্য এবং বিএম কলেজের জমি দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলে স.ম. ফাহিদ আলেন্দে আওয়ামী লীগ ঘরানার শিক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আওয়ামীলীগের ঘোষিত জাতীয় শোক দিবসে পোস্টার বানিয়ে তা প্রচারও করেছেন। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় জিলা স্কুলের শিক্ষার্থীরা যাতে আন্দোলনের কর্মসূচিতে অংশ নিতে না পারে, সে জন্য তিনি স্কুলের প্রধান ফটক বন্ধ করে রাখতেন বলে একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আন্দোলনের পুরো সময়জুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে তাদের বাধা দেওয়া হয়। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও প্রভাবশালী ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলার সাহস পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া নগরীর বৈদ্যপাড়া এলাকায় বিএম কলেজের জমি দখল করে তিনতলা ভবন নির্মাণ করে সেখানে বসবাসের অভিযোগও রয়েছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ভবনেও তিনি কোচিং বাণিজ্য পরিচালনা করছেন।
শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের অভিযোগ দ, নগরীর বটতলা মোড়ে একটি পাঁচতলা ভবনের ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে শিক্ষক নিয়োগ করে কোচিং বাণিজ্য পরিচালনা করছেন স.ম. ফাহিদ আলেন্দে। ‘ফাহিদ স্যারের কোচিং’ নামে পরিচিত ওই প্রতিষ্ঠানে জিলা স্কুলসহ নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে বলে জানা গেছে। কোচিংয়ে না পড়লে জিলা স্কুলের শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন অভিভাবক ও শিক্ষার্থী।
অভিযোগ অনুযায়ী, কোচিং পরিচালনার জন্য শিক্ষক ও কর্মচারীও নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্যের বিরুদ্ধে বিধিনিষেধ থাকলেও বছরের পর বছর প্রকাশ্যে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে বর্তমানে বিএনপিপন্থি হিসেবে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করলেও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর কোনো সুরাহা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এসব কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
এ বিষয়ে বরিশাল জিলা স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক স.ম. ফাহিদ আলেন্দের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল ও খুদে বার্তা দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
