ডেস্ক রিপোর্ট ॥ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশজুড়ে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে। আজ শুক্রবার শোকের তৃতীয় ও শেষ দিন। এই শোক পালনকালে দেশের সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে এবং জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।
গত ৩১ ডিসেম্বর বুধবার পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হয়। ছেলে তারেক রহমান পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে মাকে কবরে দাফন করেন। এর আগে সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে মরহুমার প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়।
দাফনের আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া এভিনিউ সংলগ্ন বিশাল এলাকায় বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। কয়েক কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত এই জানাজায় লাখ লাখ মানুষ অংশ নেন। শোকার্ত মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে এলাকাটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়। অনেকেই এই জানাজাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ জানাজা’ হিসেবে অভিহিত করছেন।
জানাজায় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। একই সঙ্গে দেশনেত্রীর মৃত্যুতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বেগম খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ৩০ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও সাধারণ ছুটির ঘোষণা দেন।
