স্পোর্টস ডেস্ক ॥ ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ দলের না যাওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্কের মধ্যেই বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের এক মন্তব্য নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। সাবেক জাতীয় অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ‘ভারতীয় দালাল’ আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা এই মন্তব্য ঘিরে ক্রিকেটাঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।
বৃহস্পতিবার তামিম ইকবাল সংবাদমাধ্যমে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে নিজের মতামত তুলে ধরেন। তার বক্তব্যের একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে শেয়ার করে বিসিবির অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম লেখেন, ‘এইবার আরো একজন পরীক্ষিত ভারতীয় দালাল এর আত্মপ্রকাশ।’ সমালোচনার ঝড় ওঠার পর তিনি পোস্টটি মুছে ফেললেও বিতর্ক থামেনি।
এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং তার জেরে বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত। বিষয়টি নিয়ে শনিবার থেকেই দুই দেশের ক্রিকেট মহলে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
মিরপুরে এক অনুষ্ঠানে তামিম বলেন, তিনি বোর্ডে থাকলে দেশের ভবিষ্যৎ, ক্রিকেটারদের স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক বাস্তবতা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ অর্থ আসে আইসিসি থেকে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, বিসিবি স্বাধীন সংস্থা হলেও সরকারের প্রভাব ও নির্দেশনার বিষয়টি উপেক্ষা করা যায় না। সাম্প্রতিক সময়েই গুঞ্জন উঠেছে—সরকারের নির্দেশেই বিসিবি ভারতে যেতে না চাওয়ার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বোর্ড কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শুরুতে এতটা কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল না।
এই মন্তব্য ঘিরে বিসিবির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর বিসিবি নির্বাচনে ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে নাজমুল ইসলাম নির্বাচিত হন এবং পরদিনই তাকে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়। ওই নির্বাচনকে ঘিরে ‘নির্বাচন ফিক্সিং’ ও সরকারি প্রভাবের অভিযোগ ওঠে। তামিম ইকবাল সে সময় মনোনয়ন প্রত্যাহারসহ নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়ান।
বর্তমান বিতর্কে সেই পুরনো অভিযোগ ও বিভক্তি আবারও সামনে চলে এসেছে।
