নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নবঘোষিত ১২৭ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘিরে সংগঠনটির অভ্যন্তরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা ও মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির গত শুক্রবার (১ মে) কমিটির অনুমোদন দেন। তবে ঘোষণার পরপরই ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টদের পদায়নের অভিযোগ সামনে আসায় বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করে।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নতুন কমিটিতে অন্তত ২০-২৫ জন সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের পূর্ববর্তী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে সংগঠনের ভেতরে অসন্তোষ বাড়তে থাকে।
অভিযোগে যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন সহসভাপতি মিঞা বাবুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. বিল্লাল হোসেন, মো. জিহাদুল ইসলাম ও মো. ইমরান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক শাহ তাকভীর সিয়াম, প্রিতম দাস ও বর্ণ বরন সরকার এবং গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক রবিন আহমেদ তানভীর।
সাধারণ নেতাকর্মীদের দাবি, জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগকে সহায়তাকারী কয়েকজন ব্যক্তিকেও গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে, যা ত্যাগী নেতাদের জন্য হতাশাজনক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত কর্মীদের মূল্যায়ন না হওয়ায় সংগঠনের ভেতরে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন শান্ত অভিযোগ করেন, সিনিয়র-জুনিয়র সমন্বয় না রেখেই কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং নবনির্বাচিত নেতৃত্বের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা হয়নি।
তবে কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক তারেক হাসান বলেন, কমিটি গঠনে সাংগঠনিক কার্যক্রম ও আন্দোলনে সক্রিয়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। অতীতে অন্য রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে বিতর্কমুক্তদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
