স্পোর্টস ডেস্ক ॥ বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক কার্যক্রম নতুন কাঠামোয় পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে ফিফা। ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি নতুন সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল সদস্য ফেডারেশনগুলো দীর্ঘমেয়াদে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা পেতে পারে।
ফিফার প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন প্রতিষ্ঠান বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ, টিকিট বিক্রি, লাইসেন্সিংসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। প্রতিষ্ঠানটির একটি ক্ষুদ্র অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা হবে, যার সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ বিলিয়ন ডলার। এ থেকে প্রায় ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে।
ফিফার ভাষ্য অনুযায়ী, এই অর্থ ‘ফিফা ফাস্ট-ফরোয়ার্ড’ কর্মসূচির আওতায় বিশ্বব্যাপী ফুটবল উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় করা হবে। এ খাতে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, বাণিজ্যিক অংশীদার যুক্ত হলেও প্রতিযোগিতা পরিচালনা, নীতিনির্ধারণ, ম্যাচ সূচি এবং ফুটবল-সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্তের নিয়ন্ত্রণ ফিফার কাছেই থাকবে। তবে পরিকল্পনা কার্যকর করতে ২১১টি সদস্য দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন প্রয়োজন হবে।
বর্তমানে ‘ফিফা ফরোয়ার্ড’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৭-২০৩০ মেয়াদে প্রতিটি সদস্য ফেডারেশন ৮ মিলিয়ন ডলার পাওয়ার কথা। নতুন পরিকল্পনা অনুমোদিত হলে শুরুতেই ঐচ্ছিকভাবে ২০ মিলিয়ন ডলার পাওয়া যাবে। এরপর ২০২৭-৩০ মেয়াদে ২০ মিলিয়ন, ২০৩১-৩৪ মেয়াদে ২২ মিলিয়ন এবং ২০৩৫-৩৮ মেয়াদে ২৪ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে। সব মিলিয়ে একটি সদস্য ফেডারেশন সর্বোচ্চ ৮৬ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন পেতে পারে।
ফিফা উদাহরণ হিসেবে কেপ ভার্দে ও কুরাসাওয়ের কথা উল্লেখ করে জানিয়েছে, ‘ফিফা ফরোয়ার্ড’ কর্মসূচির অর্থায়ন ওই দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
