স্পোর্টস ডেস্ক ॥ ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মধ্যকার মহারণ অনুষ্ঠিত হবে রোববার দিবাগত রাত ১টায় নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। ফিনালিসিমায় যাদের দেখা হওয়ার কথা ছিল, সেই দুই দল এবার বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চেই মুখোমুখি হচ্ছে।
আর্জেন্টিনা চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে খেলবে। অন্যদিকে স্পেন চাইবে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে ব্যক্তিগত দ্বৈরথ, দুই কোচের কৌশল, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ, লিওনেল মেসির ভূমিকা এবং দুই প্রজন্মের প্রতীক মেসি-ইয়ামালের মুখোমুখি লড়াই।
স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল ডান প্রান্তে আক্রমণের নেতৃত্ব দেবেন। তাকে থামানোর দায়িত্ব থাকবে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর ওপর। অন্যদিকে লিওনেল মেসিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে লাপোর্তে ও পাউ কুবারসির কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। একই সঙ্গে স্পেনের শীর্ষ গোলদাতা মিকেল ওয়ারজাবালকে সামলাতে হবে আর্জেন্টিনার রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে।
লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন পুরো টুর্নামেন্টে বলের নিয়ন্ত্রণ ও উচ্চ প্রেসিং ফুটবলে সাফল্য পেয়েছে এবং মাত্র একটি গোল হজম করেছে। অন্যদিকে স্কালোনির আর্জেন্টিনা দ্রুতগতির আক্রমণ, সরাসরি ফুটবল এবং প্রতিকূল অবস্থা থেকে ফিরে আসার মানসিকতায় এগিয়েছে। সবচেয়ে বেশি গোল করার পাশাপাশি তারা সাতটি গোলও হজম করেছে।
মেসি পুরো টুর্নামেন্টে গোল করার পাশাপাশি চারটি অ্যাসিস্ট করেছেন এবং আক্রমণ গঠনের মূল ভরসা হয়ে উঠেছেন। স্পেনের পরিকল্পনা থাকবে তাকে জায়গা না দেওয়া। বিপরীতে আর্জেন্টিনা চাইবে স্পেনকে ওপরে তুলে এনে পেছনের ফাঁকা জায়গা কাজে লাগাতে।
মাঝমাঠে রদ্রি ও ফ্যাবিয়ান রুইজের সঙ্গে এনজো ফার্নান্দেজ, ম্যাক অ্যালিস্টার, ডি পল ও পারেদেসের লড়াইও ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ হবে।
মেসি ও ইয়ামালের এই প্রথম আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মুখোমুখি হওয়া ম্যাচকে অনেকেই দুই প্রজন্মের নেতৃত্ব বদলের প্রতীক হিসেবেও দেখছেন। ফলে বিশ্বকাপ ফাইনালটি শুধু শিরোপার নয়, ফুটবল ইতিহাসেরও একটি বিশেষ অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে।
