স্পোর্টস ডেস্ক ॥ ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের দাপটের অন্যতম বড় কারণ ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই দলটির সম্মিলিত পারফরম্যান্স। প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের কাছে ইনিংস ব্যবধানে পরাজিত হওয়া বাংলাদেশ এবার পূর্ণশক্তির অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে উল্টো আধিপত্য দেখাচ্ছে। তৃতীয় দিনের মধ্যাহ্নভোজের বিরতি পর্যন্ত প্রথম ইনিংসে ২১৯ রানের লিড নিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এই অবস্থায় অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।
ম্যাচটির ব্যাটিং অধ্যায়ে আলাদা করে আলোচনায় এসেছেন পেসার হাসান মাহমুদ। নিচের সারিতে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৯২ বল মোকাবিলা করেছেন তিনি। আট নম্বর বা তার নিচে ব্যাটিংয়ে নেমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বল মোকাবিলার নজির এটি। এর আগে ২০১৭ সালের চট্টগ্রাম টেস্টে নাসির হোসেন সর্বোচ্চ ৯৭ বল খেলেছিলেন।
হাসান মাহমুদের এই ধৈর্যশীল ব্যাটিং বাংলাদেশের লিড বড় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘ বোলিং ইনিংসও ম্যাচের পরিস্থিতি স্পষ্ট করেছে। ২০১৯ সালের জানুয়ারির পর ঘরের মাঠে প্রথমবার দুইশোর বেশি রানে প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে পড়েছে অস্ট্রেলিয়া। এর আগে ২০০০ সালের পর অন্তত ১৫০ রানে পিছিয়ে থেকেও অস্ট্রেলিয়া মাত্র তিনবার টেস্ট জিতেছে।
সেই তিন জয়ের মধ্যে ২০১০ সালে সিডনিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০৬ রানে পিছিয়ে থেকেও জয় ছিল সবচেয়ে বড়। ২০০৪ সালে গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৬১ এবং ২০০৬ সালে ফতুল্লায় বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৫৮ রানে পিছিয়ে থেকেও জয় পেয়েছিল তারা। প্রথম ইনিংসে ২০০ বা তার বেশি রানে পিছিয়ে পড়ার পর অস্ট্রেলিয়ার জয় অবশ্য টেস্ট ইতিহাসে তিনবারের। সর্বোচ্চ ২৯৭ রানে পিছিয়ে ১৯৯২ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এবং ১৯৫০ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৩৬ রানে পিছিয়ে থেকেও তারা জিতেছিল।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের দীর্ঘ সময় মাঠে থাকার আরেকটি নজিরও সামনে এসেছে। ভারতের বিপক্ষে ২০১৯ সালের সিডনি টেস্টে এক ইনিংসে ১৬৭ দশমিক ২ ওভার বল করেছিল তারা। এবার বাংলাদেশের বিপক্ষে সেই দীর্ঘ পরিশ্রমের চাপ আরও স্পষ্ট। বাংলাদেশের ব্যাটাররা ইতোমধ্যে ১৩৩ ওভার ব্যাট করেছে।
সব মিলিয়ে পরিসংখ্যান, দীর্ঘ ব্যাটিং এবং হাসান মাহমুদের মতো নিচের সারির ব্যাটারদের প্রতিরোধ—সবকিছু মিলিয়ে ডারউইনে ইতিহাসের দুয়ারে বাংলাদেশ।
