আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মোজতবা খামেনি। প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতবাকে সোমবার মধ্যরাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন নেতা ঘোষণা করে দেশটির শীর্ষ ধর্মীয় সংস্থা অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস।
এই সংস্থার সদস্য সংখ্যা ৮৮ জন এবং তারা প্রতি আট বছর অন্তর নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালে ইরানের প্রতিষ্ঠাতা নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর আলি খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করা হয়েছিল। এবার মোজতবা খামেনিকে দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করল এই সংস্থা।
৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি স্বল্পভাষী ও প্রচারবিমুখ হিসেবে পরিচিত। তার বাবার শাসনামলে তিনি কোনো সরকারি পদে না থাকলেও ক্ষমতার কেন্দ্রের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হতেন। বিশেষ করে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। নতুন নেতা ঘোষণার পর এই বাহিনী তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছে।
সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সশস্ত্র বাহিনী এবং বিচার বিভাগের সমর্থন লাভ করেন।
মোজতবা খামেনি ১৯৬৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ইরানের মাশহাদ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কোম শহরের ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রে ধর্মতত্ত্ব নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং সেখানে শিক্ষকতাও করেছেন। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বংশধর হওয়ায় তিনি কালো পাগড়ি বা সৈয়দ পরিচয় ধারণ করেন।
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তখন দেশটির অর্থ বিভাগ অভিযোগ করেছিল, কোনো সরকারি পদে না থেকেও তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে আঞ্চলিক কৌশল ও অভ্যন্তরীণ দমনমূলক নীতি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখছেন।
বিরোধীদের অভিযোগ, ২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের পুনর্নির্বাচনের পর যে ব্যাপক প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তা দমনে মোজতবা খামেনির ভূমিকা ছিল।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তার শত মিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ রয়েছে এবং বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে তেল বিক্রির অর্থ ইউরোপ ও দুবাইয়ের স্থাবর সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করা হয়েছে। হামলায় তার স্ত্রী জোহরা হাদ্দাদ-আদেলও নিহত হয়েছেন বলে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
