স্পোর্টস ডেস্ক ॥ গত চার বছর ধরে বিশ্বজুড়ে একের পর এক যুদ্ধ, সংঘাত ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে কাটছে মানুষের জীবন। কোথাও যুদ্ধ থামার খবর এলেও অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। এমন বাস্তবতায় ৮০০ কোটিরও বেশি মানুষের আলোচনায় এখন আরেকটি যুদ্ধ—ফুটবলের বিশ্বযুদ্ধ। আজ শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবলের ২৩তম আসর, যা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রথমবারের মতো ৪৮টি দেশ নিয়ে তিন দেশে—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্বকাপ। আজ মেক্সিকো শহরে বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পর্দা উঠবে আসরের। উদ্বোধনের আগে ৯০ মিনিটের সাংস্কৃতিক আয়োজন থাকবে, যেখানে মেক্সিকো তাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরবে। এরপর রাত ১টায় উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকো মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার।
তবে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই নানা আলোচনা ও বিতর্ক সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের রাজনৈতিক উত্তেজনাও বিশ্বকাপের আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে। দুই দেশই এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে, যদিও তারা ভিন্ন গ্রুপে রয়েছে। ফলে মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবুও দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক বিশ্বমাধ্যমের নজরে রয়েছে।
মেক্সিকো শহরে বিশ্বকাপ ঘিরে বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলনও চলছে। আন্দোলনকারীরা দাবি পূরণ না হলে আয়োজন ব্যাহত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। যদিও আয়োজকরা আশাবাদী, উৎসবমুখর পরিবেশেই শুরু হবে বিশ্বকাপ।
বিশ্বকাপ এমন একটি আয়োজন যেখানে ধর্ম, বর্ণ বা জাতিগত বিভাজনের কোনো স্থান নেই। বিশ্বের নানা প্রান্তের ফুটবলার ও সমর্থকেরা একই আবেগে মিলিত হন। ফুটবলই হয়ে ওঠে তাদের একমাত্র ভাষা।
বিশ্বকাপ মানেই শুধু খেলা নয়, কোটি মানুষের আবেগ, স্বপ্ন ও প্রত্যাশার মঞ্চ। রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক সংঘাতের মাঝেও ফুটবলপ্রেমীরা আশা করছেন, আগামী ১৯ জুলাইয়ের ফাইনাল পর্যন্ত বিশ্বের দৃষ্টি থাকবে সবুজ মাঠে, যেখানে জয়-পরাজয়ের গল্প লিখবেন বিশ্বের সেরা ফুটবল তারকারা।
