ডেস্ক রিপোর্ট ॥ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় লাভের পর নতুন সরকার গঠন করে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় এসে নতুন প্রধানমন্ত্রী ৪৯ সদস্যের একটি বিস্তৃত মন্ত্রিসভা ঘোষণা করেছেন, যেখানে দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের পাশাপাশি নতুন মুখের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। সরকার পরিচালনায় গতি আনতে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি মন্ত্রণালয়—প্রতিরক্ষা, জনপ্রশাসন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং যুব ও ক্রীড়া—নিজের অধীনেই রেখেছেন তিনি।
মন্ত্রিসভার দায়িত্ব বণ্টনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় দলীয় মহাসচিবের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, যা মাঠ প্রশাসন ও স্থানীয় সরকারের কার্যক্রমে রাজনৈতিক সমন্বয় জোরদার করবে বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অভিজ্ঞ অর্থনীতিনির্ভর নেতৃত্বকে, যিনি দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে অগ্রাধিকার দেবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
স্বরাষ্ট্র, আইন, শিক্ষা ও পররাষ্ট্রসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোতেও অভিজ্ঞ ও আলোচিত ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতেও অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে মন্ত্রী নিয়োগ করা হয়েছে, যাতে দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়।
অন্যদিকে পরিবেশ, সড়ক ও সেতু, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক, সমাজকল্যাণ, ধর্ম, সংস্কৃতি, ভূমি, প্রবাসী কল্যাণ, পানিসম্পদ ও বিমান পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব পেয়েছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়েও নতুন দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।
সরকারি সূত্র বলছে, প্রশাসনিক কার্যক্রমে সমন্বয় ও দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এ মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিতব্য প্রথম বৈঠকে সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচি নির্ধারণ করা হতে পারে।
