ডেস্ক রিপোর্ট ॥ পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আবারও রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বিভিন্ন জেলায় বোমা হামলা ও বন্দুকযুদ্ধে অন্তত এক ডজনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন।
সোমবার বাজাউর জেলায় বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি নিরাপত্তা চৌকির দিকে ধেয়ে গিয়ে বিস্ফোরিত হলে এক শিশুসহ ১১ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হন। আহত হন আরও সাতজন। বিস্ফোরণের অভিঘাতে পাশের একটি ভবন ধসে পড়ে একটি মেয়েশিশুর মৃত্যু হয় বলে স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বলছে, আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরকভর্তি গাড়িটি একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেয়ালে আঘাত করলে ভেতরে থাকা পুলিশ ও ফ্রন্টিয়ার কোরের সদস্যরা প্রাণ হারান।
একই দিনে বান্নু জেলায় থানার প্রবেশপথের কাছে মোটরসাইকেলে রাখা বোমা বিস্ফোরণে দুইজন নিহত ও অন্তত ১৭ জন আহত হন। সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গি হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এদিকে শাংলা জেলায় পৃথক অভিযানে পুলিশ ও বিদ্রোহীদের মধ্যে গোলাগুলিতে তিন পুলিশ সদস্য ও তিন সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, নিহত বিদ্রোহীরা চীনা নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা বেড়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসেই দেশটিতে সহিংসতায় ২ হাজার ৪০০–এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
পাকিস্তান সরকারের অভিযোগ, এসব হামলার পেছনে মূলত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) জড়িত, যাদের শীর্ষ নেতৃত্ব আফগানিস্তানে অবস্থান করছে বলে ধারণা করা হয়। সীমান্তবর্তী উপজাতীয় এলাকা থেকেই সংগঠনটির সদস্যরা সক্রিয় থাকে।
