ডেস্ক রিপোর্ট ॥ আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর হাট ও খামারগুলোতে এবারও দেখা দিয়েছে নানা চমক। তবে সব আলোচনাকে ছাপিয়ে নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার একটি খামারের ব্যতিক্রমী এলবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়া এলাকায় অবস্থিত রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্ম-এ রাখা এই প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের মহিষটি এখন দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণ। গোলাপি রঙের শরীর এবং মাথার সামনের লম্বা লালচে-সোনালি চুলের কারণে অনেকেই এটিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর চুলের স্টাইলের সঙ্গে তুলনা করছেন। এই মিল থেকেই খামার কর্তৃপক্ষ মজার ছলে মহিষটির নাম রাখে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।
প্রতিদিন শত শত মানুষ খামারে ভিড় করছেন এই মহিষটি এক নজর দেখার জন্য। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে পশুটিকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। ঈদকে ঘিরে পশু দেখার ঐতিহ্যের সঙ্গে এবার নতুন মাত্রা যোগ করেছে এই ভাইরাল মহিষটি।
খামারের মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধা জানান, গত বছরের কোরবানির ঈদের পর রাজশাহী থেকে মহিষটি সংগ্রহ করা হয়। এরপর প্রায় ১০ মাস ধরে বিশেষ যত্নে লালন-পালন করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রথমে কোনো নাম ছিল না। পরে ছোট ভাইয়ের মজার মন্তব্য থেকেই ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
খামারের পরিচর্যাকারী কাউসার মিয়া বলেন, মহিষটি শান্ত স্বভাবের এবং নিয়মিত যত্নের প্রয়োজন হয়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট খাদ্য দেওয়া হয় এবং আলাদা পরিচর্যার মাধ্যমে রাখা হয়। মহিষটির খাদ্যতালিকায় ভুট্টা, সয়াবিন, তিলের খৈল, গমের ভুসি, ধানের কুঁড়া, খড় ও তাজা ঘাস রয়েছে।
খামারের আরেক কর্মচারী জুবায়ের জানান, খামারে আরও কয়েকটি মজার নামের পশু রয়েছে যেমন ‘তুফান’, ‘রহমান ডাকাত’ ও ‘মাস্তান’। তবে সবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।
দর্শনার্থী আশরাফুল ইসলাম বলেন, ফেসবুকে দেখে বিশ্বাস না হলেও সামনে এসে সত্যিই অবাক হয়েছেন তিনি। শিশু থেকে শুরু করে পরিবারের সবাই এই মহিষটি দেখতে আসছে।
খামার সূত্রে জানা গেছে, এবারের ঈদে প্রায় ২০০টি পশু প্রস্তুত থাকলেও সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ ছিল এই এলবিনো মহিষটি। শেষ পর্যন্ত মহিষটি ঢাকার এক ক্রেতার কাছে লাইভ ওয়েট হিসেবে প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা দরে প্রায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, এটি কোনো বিরল বিদেশি জাত নয়, বরং দেশি এলবিনো মহিষ। শরীরে রঞ্জক পদার্থের স্বল্পতার কারণে এর রং ভিন্ন হয়েছে।
