কক্সবাজার প্রতিনিধি ॥ রাখাইন রাজ্যে চলমান ত্রিমুখী সংঘর্ষে বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী, আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষের ফলে সীমান্তের ওপারে ভারী অস্ত্রের ব্যবহার বাড়ায় এপারের সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
শনিবার সন্ধ্যা থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় একাধিক বোমা বিস্ফোরণ ও টানা গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। সীমান্ত সংলগ্ন বসতবাড়ি, চিংড়ি ঘের ও কৃষিজমিতে ছোড়া গুলি এসে পড়ায় ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে রয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে চাইছে। হোয়াইক্যং এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, রাতের বেলায় তো বটেই, দিনের আলোতেও বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন তারা।
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, সীমান্তে তিন দিন ধরে থেমে থেমে গোলাগুলি চলছে। এতে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও ব্যাহত হচ্ছে, বিশেষ করে চিংড়ি চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
এদিকে রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা আরমান জানান, সংঘর্ষ এতটাই ভয়াবহ যে জীবন বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে আসা ছাড়া তার আর কোনো উপায় ছিল না।
উখিয়া ব্যাটালিয়ন ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নিরাপত্তা জোরদার রয়েছে। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম জানান, সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং জনসচেতনতা বাড়াতে প্রশাসনের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
