ডেস্ক রিপোর্ট ॥ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণায় একাধিক নতুন ও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পোস্টার নিষিদ্ধের পাশাপাশি যানবাহন ব্যবহার, শোডাউন, মিছিল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
গত ১১ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলেও প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো ধরনের প্রচারণার সুযোগ নেই। তবু তফসিল ঘোষণার পর চট্টগ্রাম-১৫ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন মোটরসাইকেল ও গাড়িবহর নিয়ে শোডাউন করায় নির্বাচন কমিশন তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘আমরা তাকে আগেই সতর্ক করেছিলাম। এরপরও একই অপরাধ তিনি একাধিকবার করেছেন। তাই কমিশন আইনের প্রয়োগ করেছে।’
সংশোধিত আচরণবিধি অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারণায় বাস, ট্রাক, নৌযান, মোটরসাইকেল বা অন্য কোনো যান্ত্রিক বাহন ব্যবহার করে মিছিল, জনসভা কিংবা শোডাউন করা যাবে না। এমনকি যানবাহন ছাড়া কোনো ধরনের মশাল মিছিলও নিষিদ্ধ। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়ও কোনো মিছিল বা শোডাউনের সুযোগ রাখা হয়নি।
ভোটের দিন যান চলাচলের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা থাকবে, সে সময় ভোটকেন্দ্রের ভেতরে কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এসব বিধান ভঙ্গ করলে আর্থিক দণ্ডের পাশাপাশি প্রার্থিতা বাতিলের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এবার প্রথমবারের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও পৃথক ধারা যুক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রার্থী, তার নির্বাচনী এজেন্ট বা সংশ্লিষ্ট দলকে প্রচারণা শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি ও ই-মেইলসহ সব তথ্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে।
সংশোধিত আচরণবিধিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার নিয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অসৎ উদ্দেশ্যে এআই ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর, মিথ্যা বা বিদ্বেষমূলক কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘৃণা, বিদ্বেষ, ব্যক্তিগত আক্রমণ, নারী ও সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্যের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতির অপব্যবহার হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি সত্যতা যাচাই ছাড়া নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো তথ্য শেয়ার বা প্রকাশ করা যাবে না বলেও আচরণবিধিতে উল্লেখ রয়েছে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘আইনের প্রয়োগের বিষয়ে আমরা কোনো ছাড় দেব না। যিনিই আচরণবিধি ভাঙবেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিশ্লেষকদের মতে, এসব কঠোর বিধিনিষেধ নির্বাচনী পরিবেশকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে সহায়ক হলেও বাস্তব প্রয়োগে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তার ওপরই নির্ভর করবে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
