ডেস্ক রিপোর্ট ॥ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রক্তঋণ পরিশোধের একমাত্র পথ হলো বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক এবং মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় জাতিকে চরম ত্যাগ-তিতিক্ষা ও রক্তমূল্য দিতে হয়েছে। তাঁর দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাংশের গুলিতে প্রায় দেড় হাজার মানুষ শহিদ এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। বহু মানুষ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দেওয়া বাণীতে তিনি বলেন, ৫ আগস্ট জাতির ইতিহাসে গৌরবময় একটি দিন। ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন একপর্যায়ে সরকারবিরোধী এক দফার আন্দোলনে পরিণত হয়। আন্দোলন দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হলেও জনগণ রাজপথ ছাড়েনি। অবশেষে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগে বাধ্য হন এবং দীর্ঘদিনের একনায়কতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শহিদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিমসহ আন্দোলনে আত্মদানকারী প্রত্যেককে জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি তাদের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহত, পঙ্গুত্ব বরণকারী ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সমবেদনা জানান।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষ বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই প্রত্যাশা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। তাই শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় সব ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই।
বাণীর শেষাংশে জামায়াতের আমির বলেন, শহীদদের রক্ত কখনো বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। একটি পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক, সুশাসনভিত্তিক, মানবিক ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনের মাধ্যমে তাঁদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি মহান আল্লাহর কাছে দেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
