ডেস্ক রিপোর্ট ॥ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় ঘোষণার পর আপিল কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। একদিকে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন তার পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন, অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের আমৃত্যু কারাদণ্ড বাতিল করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আবেদন জানিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট সূত্র জানায়, সাবেক আইজিপি মামুন ১৭ ডিসেম্বর আপিল বিভাগে আপিল করেন। তিনি এ মামলার রাজসাক্ষী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, যা রায়ে উল্লেখ করা হয়। তবে দণ্ড ঘোষণার পর তিনি আইনি প্রতিকার চেয়ে আপিলের পথ বেছে নেন।
এর আগে ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি পৃথক অভিযোগে তাদের আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম ১৫ ডিসেম্বর সাংবাদিকদের জানান, দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকরযোগ্য নয়। তাই আমৃত্যু কারাদণ্ড বাতিল করে উভয়ের জন্য মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করা হয়েছে। আপিলে মোট আটটি আইনি যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।
মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় ৫৪ জন সাক্ষ্য দেন। সাক্ষীদের মধ্যে শহীদ পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিকদের সাক্ষ্য আদালতের পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ট্রাইব্যুনাল রায়ে শহীদদের পরিবার ও আহতদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেয় এবং দোষীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেয়। ১০ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয় এবং এই মামলার অধিকাংশ শুনানি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়, যা বাংলাদেশের বিচার ইতিহাসে নজির সৃষ্টি করেছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আপিল নিষ্পত্তির মাধ্যমে এই মামলার চূড়ান্ত আইনি পরিণতি নির্ধারিত হবে।
