ডেস্ক রিপোর্ট ॥ বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের কার্যক্রম বৃহস্পতিবার থেকে স্বাভাবিকভাবে শুরু হলেও গ্রাহকদের টাকা উত্তোলন নিয়ে বিভ্রান্তি ও বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও গ্রাহকরা ২ লাখ টাকা তুলতে পারলেও কোথাও দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় একটি রেজল্যুশন স্কিম চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই স্কিম অনুযায়ী, যাদের হিসাবে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা রয়েছে, তারা যে কোনো সময় একবারে পুরো অর্থ তুলতে পারবেন। আর যাদের হিসাবে ২ লাখ টাকার বেশি রয়েছে, তারা প্রতি তিন মাস অন্তর সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা করে দুই বছর পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারবেন।
তবে বাস্তবে প্রথম দিনে এই নির্দেশনা সব শাখায় সমানভাবে কার্যকর হয়নি। অনেক শাখা জানিয়েছে, পর্যাপ্ত ফান্ড না থাকায় তারা পূর্ণ অঙ্ক দিতে পারেনি। ফলে গ্রাহকদের রবিবার বা সোমবারের পর আসতে বলা হচ্ছে।
বিশেষ করে রাজধানীর ধানমন্ডি, মিরপুর, বনশ্রী ও কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ এলাকার শাখাগুলোতে গ্রাহক ভোগান্তির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক গ্রাহক জানান, ব্যাংক একীভূত হলেও তাদের সমস্যার সমাধান হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, ৬০ বছরের বেশি বয়সী গ্রাহক এবং ক্যানসার বা কিডনি ডায়ালাইসিসের মতো গুরুতর রোগে আক্রান্ত আমানতকারীরা মানবিক বিবেচনায় নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়েও টাকা তুলতে পারবেন।
একীভূত প্রক্রিয়ার আওতায় পাঁচ ব্যাংকের সব চলতি, সঞ্চয়ী ও স্থায়ী আমানত, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা এবং আগের সব চুক্তি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ কারণে গ্রাহকদের আপাতত নতুন কোনো চেকবই বা কাগজপত্র নিতে হচ্ছে না। পুরোনো চেকবই, ডিপোজিট স্লিপ ও ভাউচার এখনো বৈধ রয়েছে।
তবে নির্ধারিত সময়ের আগে স্থায়ী আমানত ভাঙা যাবে না। বিদ্যমান আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ এবং নতুন আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাওয়া যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ধাপে ধাপে সব শাখায় স্বাভাবিক লেনদেন নিশ্চিত করা হবে এবং গ্রাহক ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
